জাতীয়

৬০-৭০ আসনের সীমানা পরিবর্তন হতে পারে

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নতুন করে সীমানা পুনর্বিন্যাসের চিন্তাভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন। আগামী নির্বাচনে ৬০ থেকে ৭০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পরিবর্তন আসতে পারে। শিগগিরই সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজটি সম্পন্ন করবে ইসি। ইসি’র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাও সীমানা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সোমবার সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৩০শে অক্টোবর থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে অথবা ২০১৯ সালের প্রথমদিকে যেকোনো দিন একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হবে। সিটমহল, নদী ভাঙন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ৬০/৭০টি আসনে সীমানা পুনঃনির্ধারণ হতে পারে। ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, রোডম্যাপ অনুসারে ডিসেম্বরের মধ্যে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করার কথা ছিল ইসি’র। এবার সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তা হচ্ছে ২০১৩ সালের নির্ধারিত জেলাভিত্তিক মোট আসন অপরিবর্তিত রাখা, সংসদীয় আসন জেলাভিত্তিক বণ্টন ও এক জেলার আসনের এলাকা অন্য জেলায় সমপ্রসারণ না করা, যেখানে সম্ভব উপজেলা, পৌর ও নগর এলাকা অবিভাজিত রাখা এবং ভৌগোলিক ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নেয়া। এ ছাড়া এবার বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোকেও সংশ্লিষ্ট আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। নতুন যে কয়েকটি উপজেলা গঠন করা হয়েছে তাতেও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসবে। সীমানা পুনঃনির্ধারণের জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রায় ৬০টি আসন। এর মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও-২ ও ৩ আসন; নীলফামারী ৩ ও ৪, কুড়িগ্রাম ৩ ও ৪, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২, পাবনা ১ ও ২; চুয়াডাঙ্গা ১ ও ২; ঝিনাইদহ ২ ও ৪; যশোর-৩ ও ৪; মাগুরা-১ ও ২; নড়াইল ১ ও ২; খুলনা ৩ ও ৫; সাতক্ষীরা ৩ ও ৪, জামালপুর ৪ ও ৫; ময়মনসিংহ ৩ ও ৪, মানিকগঞ্জ ২ ও ৩; ঢাকা ২, ৩, ৪, ১৪ ও ১৯; গাজীপুর ৩ ও ৫; নরসিংদী ১ ও ২; ফরিদপুর ২ ও ৪; গোপালগঞ্জ ১ ও ২; মাদারীপুর ২ ও ৩; সিলেট ২ ও ৩; মৌলভীবাজার ২ ও ৪; ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৫ ও ৬; কুমিল্লা ১০; নোয়াখালী ১, ২, ৪ ও ৫; লক্ষ্মীপুর ২ ও ৩, চট্টগ্রাম ৭, ৮, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫।
এর আগে ২০১৩ সালে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সীমানা পরিবর্তনের জন্য ৮৭টি আসনের প্রাথমিক তালিকা করে। কিন্তু নানা ধরনের দাবি, আপত্তি ও রাজনৈতিক সুপারিশের কারণে শেষ পর্যন্ত সীমানা পরিবর্তন হওয়া আসনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩। এদিকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপে এবার ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুনঃনির্ধারণ এবং সেই লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেও তা হচ্ছে না। কমিশন নতুন আইন প্রণয়নের জন্য যে প্রস্তাব বা প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, তা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ের জন্য। সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে রোডম্যাপের সর্বশেষ সময়ও পার হয়ে গেছে গত ডিসেম্বরেই। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব কাজটি সম্পন্ন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। বর্তমান ভোটার তালিকা অনুসারে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচ লাখ থেকে সাত লাখের উপরে ভোটার রয়েছে ৯টি আসনে। এদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলার কারণে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের সীমানা গেজেট ঝুলে রয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র জানায়, বর্তমান সংসদীয় আসনের সীমানা আইন দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশের ২৯৯টি আসনের খসড়া সীমানা প্রস্তুত করেছে ইসি। কিন্তু নাঙ্গলকোট উপজেলার কারণে ৩০০ আসনের গেজেট প্রকাশ করতে পারছে না সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি।

Comment here