জাতীয়পটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রামরাজনীতি

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে খরনা ইউপি চেয়ারম্যান হতে চান কারা পরিদর্শক আবদুল হান্নান লিটন

পটিয়া নিউজ : আসন্ন  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পটিয়া উপজেলার খরনা ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান হতে চান বিশিষ্ট সমাজ সেবক, তরুণ রাজনীতিক, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের কান্ডারী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী এমপির স্নেহভাজন-আস্থাশীল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারাগার পরিদর্শক আবদুল হান্নান লিটন।

পটিয়া নিউজ.নেট এর সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি খরনা ইউনিয়নকে নিয়ে তার স্বপ্ন ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আবদুল হান্নান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল নেতা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পটিয়া ও দক্ষিন জেলায় অনেকদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের  হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী⊥র বিজয়ে সংসদের প্রথম নির্বাচন থেকে সর্বশেষ নির্বাচন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এলাকার ভোটারদের কাছে পরিচিত জনপ্রিয় মুখ আবদুল হান্নান লিটন বিগত ইউপি নির্বাচনে দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা কারণে এলাকার সমস্যা সম্ভাবনা উন্নয়ন সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেছেন।

এলাকার ভোটারদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকারি দায়িত্বের মধ্যেও তিনি আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

ইতিমধ্যে এলাকার নেতৃস্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মী ও মুরুব্বিদের নিয়ে একাধিক উঠান বৈঠক করেছেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে পটিয়ায় বিশাল শোডাউন এর আয়োজন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার দৃষ্টি কাড়েন লিটন।

এছাড়া বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলের জন্ম দিন উদযাপনে আলোচনা সভা সহ তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে শাহাদাত বার্ষিকীর দিন জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের নিয়ে ত্রাণ বিতরণ, দুঃস্থদের সাহায্য ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেন।

আব্দুল হান্নান লিটন বলেন, বিগত ১২ বছর হুইপ আলহাজ্ব শামসুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে খরনা ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে এলাকার উন্নয়ন অব্যাহত রাখা, মাদক নির্মূল, বেকারত্ব নিরসন, যুবক- যুবতীদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা হবে নির্বাচিত হলো তার প্রথম প্রায়োরিটি।

একজন বিশ্বস্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে হুইপ শামসুল হক চৌধুরী মহোদয়ের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য তিনি নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান লিটন।

আব্দুল হান্নান লিটন বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুনরায় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যানদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

একজন নিবেদিতপ্রাণ, নিঃস্বার্থ ও সাহসী জনপ্রতিনিধি না থাকলে দলকে বিজয় অর্জনে ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে না।  আমার ও পটিয়ার অভিভাবক, আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী যখন যে দায়িত্ব দিয়েছেন সাফল্যের সাথে তা পালন করেছি এখনও করে চলেছি।

আমি আশা করছি আসন্ন নির্বাচনে হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দলের মনোনয়ন পাব ইনশাআল্লাহ।

পটিয়ার খরনা ইউনিয়ন উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এখানকার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। অধিকাংশ লোক কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রচুর শাকসবজি ও ফল আমাদের ইউনিয়নে উৎপাদন হয় ; কিন্তু এলাকার কৃষকরা এসব ফসল সংরক্ষণ করার সুযোগ পায়না বলে ক্ষেত খামারে পঁচে গলে নষ্ট হয়ে যায়।

তাছাড়া একসাথে ফসল উৎপাদন হয় বলে ন্যায্যমূল্য পায়না।  তিনি বলেন নির্বাচিত হলে এলাকার কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞান ভিত্তিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন খাদ্য ঘাটতির এদেশে একখণ্ড জমিও পতিত রাখা যাবে না। তাই পরিকল্পিত চাষাবাদের মাধ্যমে এলাকার কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো হবে। তাদের ফসল সংরক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

খরনা ইউনিয়নের পূর্ব পাশে পাহাড়ি এলাকায় বনায়ন সহ পরিকল্পিত চাষাবাদের সাথে বিনোদনের জন্য পর্যটন স্পট গড়ে তোলা হবে।

তরুণ ও যুবকদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মিলে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

এলাকায় যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখা হবে। প্রতিটি ধর্মীয় স্থান এর পবিত্রতা রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে।

ঈদ ও পূজা পার্বণে ধর্মপ্রাণ লোকদের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, গরিব পরিবারের ছেলেদের বিনামূল্যে খতনা, বয়স্কদের জন্য ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।

বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে যাদের বেশি প্রয়োজন তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এক্ষেত্রে কোন স্বজন প্রীতি, আত্মীয় প্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। খরনা ইউনিয়নের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতাঃ গ্রহণ করা হবে।

বিনা কারণে কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিবছর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস সহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস গুলো পালন করা হবে।

কোন হয়রানি ছাড়াই জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও জাতীয় সনদপত্র সহ সব ধরনের সেবা প্রদান করা হবে।

এলাকার প্রতিটি নাগরিক যাতে করোনার টিকা সহ প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পায় তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের সেবার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

খরনা ইউনিয়নের প্রতিটি সড়ক ও অলিগলি পথগুলো পাকাকরণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম হবে শহর এই শ্লোগান বাস্তবায়নের জন্য হুইপ মহোদয় এর সাথে মিলে বিদ্যুতায়ন, সড়ক বাতি স্থাপন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।

এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে এলাকার প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, প্রতিটি গ্রাম সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে।

দলীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে উঠে সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ ও সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে খরনা ইউনিয়ন হবে মডেল ইউনিয়ন।

নেতৃস্থানীয় নাগরিকদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে। সরকারী বিধি মোতাবেক প্রতিবছর জনসমক্ষে বাজেট উপস্থাপন ও পাশ করা হবে।

এলাকার মানুষের পরামর্শে চলবে খরনা ইউনিয়নের কার্যক্রম। তিনি বলেন নির্বাচনের আগে সবার জন্য আমার দরজা যেমন খোলা আছে,  তেমনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ইউনিয়ন পরিষদের দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে। যে কেউ, যে কোনো সময়, যে কোনো সমস্যা নিয়ে পরিষদে আসতে পারবেন।

কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যই আমি নির্বাচনে প্রার্থী  হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছি।

ব্যক্তিগত কোন লাভের জন্য চেয়ারম্যান হতে চাই না। নিজের জীবন ও কর্মকে এলাকার মানুষের উন্নয়নে বিলিয়ে দিতে চাই।

আপনারা অতীতে যেমন আমার জন্য দোয়া করেছেন, আশীর্বাদ করেছেন, ভালোবেসেছেন, পাশে থেকেছেন, অনুপ্রেরনা যুগিয়েছেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও আমার পাশে থাকবেন।
আমাকে সমর্থন দিবেন, সহযোগিতা করবেন এবং বিজয়ী হতে প্রচেষ্টা চালাবেন।

ইনশাআল্লাহ আমাদের সবার প্রিয় খরণা ইউনিয়ন হবে আগামী দিনে পটিয়ার উন্নয়নের রোল মডেল।