জাতীয়দেশজুড়েপটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রাম

পটিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ; সরকারি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান যেন দুর্নীতিবাজদের অবৈধ টাকা কামানোর মেশিন

পটিয়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ গ্রাহকদের মিটার মিটার না দেখে বিল দেয় এবং মাঝে মাঝে দেয় ভুতুড়ে বিল। এমন অভিযোগ গ্রাহকরা দীর্ঘদিন থেকে করে আসলেও তাতে কর্ণপাত করছেন না নির্বাহী ও তার সহকর্মীরা। তারা এই সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সেবার পরিবর্তে জিম্মি করে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত অবৈধ টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে। 

বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন  পটিয়ায় যোগদানের পর থেকে গ্রাহকদের সাথে চরম দূর্ব্যবহার করছেন।  তাঁর আচরণ অসৌজন্য মূলক ও ভদ্রহীন বলে জানান গ্রাহক ও সাংবাদিক এ,টি,এম, তোহা।

করোনাকালীন ভুতুড়ে বিল দিলে এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দিলে পরে তাদের সমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসন্তোষ সাময়িক দমন করা হয়।

গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের এই হয়রানি থেকে পরিত্রানের খুঁজলেও বিদ্যুত বিতরণ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিরা কখনো তা গ্রাহ্য করেননা।

সম্প্রতি এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভুতুড়ে বিল এবং অফিসে বহিরাগত দালালদের দৌরাত্ম্য। বিদ্যুৎ বিতরণ অফিস কে প্রকৃত কর্মচারী, কর্মকর্তা, আর কি বহিরাগত, ব্যবধান করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ারে বসেই তারা  নিজেকে বিদ্যুত বিভাগের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে হয়রানি করেছেন।  এদের অনেকেই এখন অবৈধ লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক।

এদের কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম হলো মনসুর এবং মহসিন। নতুন সংযোগ দেয়া থেকে শুরু করে বিল বাড়িয়ে দেয়া, কমিয়ে দেয়া সব কাজই করে থাকে তারা এমন অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরী স্বীকার করেছেন কয়েকজন বহিরাগত এই অফিসে দালালী করে। তাদের মধ্যে মহসিনকে অফিসে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে মনসুরের ব্যাপারে কী সিদ্বান্ত নেয়া হয়েছে তা তিনি বলতে পারেননি।

এদের কারনে পটিয়ায় পিডিবির বিশাল অংকের টাকা বকেয়া থেকে যায়।  তাছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত মিটার রিডাররা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না।

মিটার রিডাররা আবার নিজেদের অধীনে বহিরাগতদের নিয়োগ করেছে মিটার রিডার হিসেবে।

এদের কেউই গ্রাহকের মিটার দেখে বিল করেননা;  এমন প্রমাণ পাওয়া যায়।

নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন সেবামূলক এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কোন অভিযোগ শুনতে চাননা। তিনি নিজেকে ফরিদপুরের অধিবাসী বলে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন।

সারাদিন তার অফিসের দরজা বাহির থেকে তালা দিয়ে বন্ধ থাকে।

তিনি বিকল্প দরজায় যাতায়াত করেন এবং সবার অজান্তে নিজ কক্ষে বসে গ্রাহকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ের জন্য কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন নাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহকর্মী জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ইতিমধ্যে আয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ফরিদপুরে তার নামে বেনামে একাধিক প্লট, ফ্লাট এবং প্রচুর ভূমি রয়েছে।

সহকারী প্রকৌশলী গৌতম চৌধুরীর বাড়ি পটিয়া হলেও তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সেবায় নিয়োজিত গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন।

অফিস প্রটোকল অনুযায়ী তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কোন গাড়ি বরাদ্দ না থাকলেও তিনি নিয়মিত অফিসের জরুরী বিভাগের গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের বাসায় যাতায়াত করেন।

চালক জানিয়েছেন সকালে তাকে শহর থেকে নিয়ে আসা হয় এবং বিকেলে অফিস শেষে পৌঁছে দেয়া হয়।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজু মন্ডলের বিরুদ্ধে।

নিয়মিত বিল পরিশোধ করে এমন গ্রাহকদের লাইন কর্তন, বিশাল অংকের জরিমানা করে পরে জরিমানা কমানোর প্রস্তাব দিয়ে ঘুষ নেয়া। তার এই কাজে সহযোগিতা করেন হিসাবরক্ষক শাহাবুদ্দিন।  বছরের পর বছর বিল পরিশোধ করেনা পটিয়ায় এমন বহু গ্রাহক রয়েছে।  তাদের লাইনও বিচ্ছিন্ন করা হয়না, বিলও আদায়ও হয়না।

রাজু মন্ডল গ্রাহকের বাসা বাড়িতে গিয়ে গ্রাহকের অজান্তে ও অনুপস্থিতিতে মিটার খুলে বাইপাস সংযোগ দিয়ে প্রথমে ভিডিও করে। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মিলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিডিও করে সেই ভিডিও নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট সেন্ড করে।

তারপর গ্রাহককে অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলে। অফিসে গেলে শুরু হয় দর কষাকষি। দরে বনিবনা না হলে বিশাল অংকের জরিমানা করে বলে আপনার বাড়িতে অবৈধ লাইন পাওয়া গেছে। এবং ভিডিও প্রদর্শন করে ভয় দেখায়। গ্রাহক কোন অবৈধ সংযোগ নেই প্রমান উপস্থাপন করলে জরিমানা কমিয়ে দেয়ার কথা বলে অবৈধ টাকা দাবি করে।

এই অভিযোগ করেছেন পৌরসভার স্বনামধন্য পরিবারের সন্তান ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর রেহেনা আকতার মুন।
তিনি  বলেন, তাঁর কাচা ঘরের কলোনিতে গিয়ে তাকে না চিনে রাজু মন্ডল এমন কান্ড করেন। পৌরসভার অন্যান্য এলাকার গ্রাহকদেরও এমন অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১১ কোটি টাকা বকেয়া ১০-১৫% লোড শেডিংয়ের কারণে পটিয়া বিতরন বিভাগ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতিতে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু হলে নিজেদের অফিসের দালাল দিয়ে হস্তান্তরে বাধার সৃষ্টি করে পিডিবির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেসময় এই আন্দোলনে সরকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারিতে হস্তান্তরে দ্বিমত পোষণ করলেও বর্তমানে কেউই এখন আর পিডিবির সেবায় সন্তুষ্ট নয়।

তাদের দাবি গ্রাহক হয়রানি বন্ধ না হলে অবিলম্বে পটিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে পল্লি বিদ্যুতে হস্তান্তর করা হোক।