দেশজুড়েপ্রিয় চট্রগ্রাম

দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষ-সুজন

এম মনির চৌধুরী রানাঃ দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটের নিকট সাধারণ জনগন জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। আজ(২৬ সেপ্টেম্বর) রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এসময় তিনি বলেন করোনাভাইরাস মহামারীতে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষদের কথা মাথায় রেখে সরকার সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, খাদ্য এবং নগদ অর্থ সহায়তাসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেছেন।
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্যও নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারের এতোসব উদ্যোগের মধ্যেও সংকটাপন্ন এই মূহুর্তে হঠাৎ করেই ভোজ্য তেল, চিনি এবং চালের অত্যধিক মূল্য বৃদ্ধি করে ক্রেতাসাধারণকে চাপে ফেলেছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
প্রায়শই তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশি ব্যবহার্য পণ্যকে টার্গেট করে, যাতে এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে সহজেই ক্রেতাদের কাছ থেকে অধিক মুনাফা আদায় করা যায়। দেখা যায় যে বাজারে নিত্যব্যবহার্য পণ্যের সংকট না থাকলেও ঐ সিন্ডিকেটটি অনৈতিকভাবে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগনের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের এহেন আচরনের ফলে জনগন এই দুঃসময়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যা মোটেও কাম্য নয়। অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন অপতৎপরতা রাষ্ট্রকে জিম্মি করার সামিল।

মূলত বিএনপি সরকারের আমলে তারেক জিয়ার হাত ধরে ভোগ্যপণ্য সিন্ডিকেটের উত্থান হলেও বর্তমানে ছলে বলে কৌশলে তারা তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই তারা কোন কারণ ছাড়াই দেশে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। এক্ষেত্রে তারা বিশেষ বিশেষ উৎসবকে টার্গেট করে। দেখা যায় যে রোজা, পুজা কিংবা কোরবানী আসলেই তারা অহেতুক পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলে।
যার ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠে। সরকারকে কঠোর হাতে এসব কতিপয় অতিলোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের দমন করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। তাছাড়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের মূল্যতালিকা টাঙানো এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে কি না সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটিকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন সরকার দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিকে রোধ করার জন্য টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু দেখা যায় যে তাদের পণ্য বিক্রির কার্যক্রম কেবল মূল সড়কেই সীমাবদ্ধ থাকে। এতে করে প্রকৃত ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার অনেক সময় গাড়ীতে পণ্য থাকা সত্বেও ক্রেতাদের মাঝে পণ্য বিক্রি না করেই চলে যায় তারা।
এছাড়া চট্টগ্রামের বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার অনুপাতে তাদের গাড়ীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। যার কারণে একজন ক্রেতাকে পণ্য ক্রয়ের জন্য প্রচন্ড খরতাপে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়। মহিলা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কষ্টের সীমা ছাড়িয়ে যায়। তাই টিসিবি’র গাড়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করার আহবান জানান তিনি। সুজন বলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গোৎসব আসন্ন।
তাই এ উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে যাতে কোন প্রকার ভোগান্তিতে না পড়ে সেদিকে দৃষ্টি দানের জন্য টিসিবি’র আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস প্রধানকে অনুরোধ জানান তিনি এবং শারদীয়া উৎসবে ব্যবহার্য পণ্য সামগ্রী বিক্রয় তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার আহবান জানান। তিনি টিসিবি’র ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির কার্যক্রমকে নগরীর অলি-গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় পৌঁছে দিতে পারলেই জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী যে উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।