পটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রাম

হাইদগাঁও রক্ষাকালী মায়ের মন্দির নিয়ে দু’পক্ষের সমঝোতা : ৪ সমাজ ও ধরপাড়ার ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন

পটিয়া নিউজ.নেট : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মায়ের মন্দির নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ২০ জুলাই (মঙ্গলবার) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সমঝোতা বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমদ,

পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার, ঐক্য পরিষদ পটিয়া পৌরসভার সভাপতি বিমল মিত্র, হুইপের উন্নয়ন সমন্বয়কারী ও দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সদস্য বিজন চক্রবর্তী,

জন্মাষ্টমি পরিষদ পটিয়া উপজেলা সভাপতি মাষ্টার শ্যামল কান্তি দে, পুজা পরিষদ দক্ষিণ জেলার সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ, ঐক্য পরিষদ পটিয়া উপজেলা সেক্রেটারি তাপস দে, পুজা পরিষদ পৌরসভার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাশ, সাধারন সম্পাদক প্রণব দাশ উপস্থিত ছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে হাইদগাঁও শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির পরিচালনা নিয়ে ধরপাড়া ও আশপাশে বসবাসকারী অন্য বেশকিছু সমাজের মধ্য বিরোধ চলছে। এই বিরোধ নিষ্পত্তি করতে ইউএনও’র কার্যালয়ে এর আগে আরো একবার চেষ্টা করা হয়।

প্রথম পর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধরপাড়ার লোকজন কালী মন্দির পরিচালনায় একক সিদ্ধান্ত নেন। এই নিয়ে এলাকার লোকজন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ও হুইপের উন্নয়ন সমন্বয়কারী বিজন চক্রর্বতী হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি ধরে রাখতে উভয় পক্ষকে অনুরোধ জানান। এই প্রেক্ষিতে ২০ জুলাই (রাতে) ইউএনও’র কক্ষে সমঝোতা বৈঠক করা হয়।

এতে ৪ সমাজের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইউপি মেম্বার স্বপন তালুকদার, রূপক নন্দী, বনমালী তালুকদার, বাপ্পু চৌধুরী, সুভাষ সেন, রতন চৌধুরী, সুমন চৌধুরী এবং ধরপাড়া সমাজের পক্ষে তপন ধর, কেশব ধর, উজ্জ্বল ধর, বিকাশ ধর, রঘু ধর।

উভয় পক্ষের সম্মতিতে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি। এর মধ্য সভাপতি (ধরপাড়া), সেক্রেটারি (৪ সমাজের পক্ষে) করা হবে৷ মায়ের মন্দিরের যাবতীয় পুজা-অর্চ্চনা উন্নয়ন কাজ কমিটির সিদ্ধান্তে করা হবে। পরবর্তীতে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হবে।

তাছাড়া হাইদগাঁও গ্রামের হিন্দু সমাজের অন্য লোকদের মন্দির পরিচালনা কাজে সম্পৃক্ততাসহ সকল পুজা, আনন্দ করার সিদ্ধান্ত হয়। উভয় পক্ষ সমঝোতা বৈঠকে স্বাক্ষর করেন।

উভয় পক্ষের সমঝোতায় বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন প্রশাসন, হুইপের উন্নয়ন সমন্বয়কারী বিজন চক্রর্বতী, ঐক্য পরিষদ নেতা বিমল মিত্রসহ পুজা পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমদ জানিয়েছেন, এই মন্দির নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন কোন সমস্যা যেন না হয় সেজন্য তিনি (উপজেলা নিবাহী অফিসার), পুলিশ প্রসাশন ও শালিশ কারকগনের উপস্হিতিতে নিষ্পত্তির ব্যাপারে উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয় এবং সকলের সম্মতিতে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর গৃহীত হয়।