পটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রাম

ইঞ্জিনিয়ার রূপক সেনের বার বার বিজয়ের নেপথ্যে…

পটিয়া নিউজ. নেট : রূপক সেন, পটিয়া পৌরসভার ২ নম্বর সুচক্রদন্ডী ওয়ার্ড কাউন্সিলর। গত ২১ বছর একটানা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পৌরসভার ইতিহাসে রেকর্ড করেছেন -ইতিহাসে ঢুকে পড়েছেন। এই রেকর্ড আর কারো নেই।

তার একটানা এই বিজয়ের নেপথ্য কারণ খুঁজেছেন পটিয়া নিউজ এর বিশেষ প্রতিনিধি।  তিনি এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলেছেন, তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন তারা কেন বার বার রূপক সেনকেই বেছে নেন?  কেন তার উপর তারা আস্থা রাখছেন, ভরসা করছেন, জনসেবার সুযোগ দিচ্ছেন।

এসব প্রশ্নের উত্তরে এলাকাবাসীর একটাই উত্তর,  রূপক সেনকে সব সময় কাছে পাই। অসাম্প্রদায়িক লোক। মুসলিম কী হিন্দু, কী বৌদ্ধ সবার সামাজিক অনুষ্ঠানে ছুটে যায়। মৃতদের কবর বা সৎকারে পাশে থাকে।

তার কাছে ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। গরীব দুঃখীদের সাহায্য করে। এমন অনেক সেবা আছে যেগুলোর জন্য পৌরসভায় দৌড়তে হয়। এসব সেবাও ঘরে বসেই কাউন্সিলর রূপক সেন দিয়ে থাকে।

শিশুদের জন্ম নিবন্ধন,  জাতীয় সনদ, জন্ম মৃত্যুর নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদ এইগুলোর জন্য হয়রানি হতে হয়না- ঘরে বা এলাকায় থেকেই সেবা দেয় রূপক সেন।

প্রতিটি বাড়িতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ এনে দিয়েছে, প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনা পাকা বা ইটের সলিং করা। সুচক্রদন্ডী ওয়ার্ডে কোন কাঁচা রাস্তা নেই।

যাদের কাচাঘর, হোল্ডিং ট্যাক্স একহাজারের কম তাদের অনেকেরই হোল্ডিং ট্যাক্স হয় মওকুফ করা হয়েছে নতুবা রূপক সেন নিজের পকেট থেকে পরিশোধ করেন।

পৌরসভায় গিয়ে এসবের সত্যতাও মিললো। অনেক অভিভাবক শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সেখানে ভিড় করেছেন কিন্তু ২ নম্বর সুচক্রদন্ডীর কাউকে পাওয়া গেলনা। কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বললেন কাউন্সিলর রূপক সেন তার এলাকার শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সমস্যা গুলো সংগ্রহ করে একসাথে নিজেই নিয়ে আসেন। ফলে স্বাস্থ্য বিধি যেমন বজায় থাকে তেমনি লোকজনকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়না।

বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা যাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদানের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখেন। একারণে ভোটের মাঠে রূপক সেনকেই তাদের আপনজন মনে হয়। তাই সুযোগ পেলেই তাকে ভোট দেন।

আমরা ইঞ্জিনিয়ার রুপক সেনের সাথেও কথা বলেছি, জানতে চেয়েছি কী এমন সম্মোহনী শক্তি আছে তার মধ্যে?  জনগণ কেন তাকে বার বার ভোট দেয়?  কী বিএনপি শাসনামলে কী আওয়ামী লীগের শাসনামলে ; জনগণ কেন তাকে পছন্দের শীর্ষে রাখে, ভালোবাসে?

তিনি বললেন মা-বাবার আর্শীবাদে জনগণের সেবা করাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।  চাকরি করতে পারতাম, করিনি। ব্যবসা করলেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার কারণে সব সময় ব্যবসাতেও সময় দিতে পারিনা।

জনসেবা এখন আমার নেশা। সুচক্রদন্ডী মানুষের পাশে থাকতে না পারলে নিজকে অসহায় মনে হয়।

প্রথম যখন কমিশনার হয়েছিলাম তারপর ভেবেছি আর নির্বাচন করবোনা। কিন্তু জনগণের সেবা করতে গিয়ে তাদের ভালোবাসায় আবদ্ধ হয়ে গেলাৃ, সিক্ত হলাম। আর কিছুতেই ছাড়তে পারলাম না।

এবার নির্বাচন না করার কথা জানলে মানুষ দলবেঁধে আমার বাড়িতে ছুটে আসে। তাদের চাপে আর অনুরোধে নির্বাচন করলাম।

সুচক্রদন্ডীতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অন্য ওয়ার্ডে হয়নি। এই ওয়ার্ড এখন একটি আবাসিক এলাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরীর সহযোগিতায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।  আরো উন্নয়ন চলমান।

এই ওয়ার্ড একটি আদর্শ ওয়ার্ড। শিক্ষা সাংস্কৃতিতে অগ্রসর এই ওয়ার্ডের সুনাম ও সুখ্যাতি বজায় রাখার জন্য তিনি ওয়ার্ডের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি আহবান জানান।

রূপক সেন বলেন, প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়ে বার বার ওয়ার্ডবাসীর সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রেখেছি।

সকলের সহযোগিতা পেলে সুচক্রদন্ডীকে একটা পরিকল্পিত, সুন্দর, মাদকমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।