আন্তর্জাতিকজাতীয়স্বাস্হ্য

চীনের টিকার অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ

ভারত থেকে করোনার টিকার দ্বিতীয় চালান পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রচারিত ই-মেইল বার্তায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস দেশটির উৎপাদিত করোনার টিকা বাংলাদেশে অনুমোদন না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। দূতাবাস বলেছে, চীনের টিকার ইমার্জেন্সি ব্যবহার বিষয়ক আবেদনও আমলে নেয়নি ঢাকা। এ জন্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কর্তৃপক্ষের ক্লিয়ারেন্স না দেয়াকে দায়ী করেছে বেইজিং। ঢাকাস্থ চীনা উপ-রাষ্ট্রদূতের দপ্তরে সংযুক্ত তথ্য অফিসার আসমা আক্তার প্রচারিত বার্তায় বলা হয়, চীন বিশ্বের ৫৩টি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে তাদের উৎপাদিত টিকা সহায়তা দিচ্ছে। আর ২০টি দেশে বাণিজ্যিকভাবে টিকা রপ্তানি করছে চীন। আগেই চীন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক ফোরাম কোভ্যাক্সের মাধ্যমে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর চাহিদা পূরণে তারা তাদের উৎপাদিত ১০ মিলিয়ন টিকা সহায়তা হিসেবে প্রদান করবে। টিকার প্রয়োজন আছে এমন দেশগুলোকে চীন টিকা সহায়তা দিতে চায় উল্লেখ করে দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনার টিকাকে সহজলভ্য করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে চীন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৃহত্তর সক্ষমতা এবং পর্যাপ্ততার ওপর ভিত্তি করে এই টিকা পৌঁছাতে চায় চীন।আজ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্লিয়ারেন্স না দেয়ায় চীনের টিকার ইমার্জেন্সি ব্যবহার বা গ্রহণ থেকে বন্ধু বাংলাদেশ বঞ্চিত। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে টিকা সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায় চীন। নিজস্ব সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বেইজিং দেশগুলোতে এই সহযোগিতা পৌঁছাতে চায়। মঙ্গলবার প্রচারিত দূতাবাসের বার্তায় আরো বলা হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করোনা মহামারির বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীর জয় নিশ্চিতে দৃঢ় অবদান রাখবে চীন। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও কাজ করবে বেইজিং। উল্লেখ্য, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি চীনা নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় ঢাকাস্থ দেশটির রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বাংলাদেশে চীনের টিকার অনুমোদনের জন্য সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনার কথা জানিয়েছিলেন। ১১ দিনের মাথায় আজ (গতকাল) সেই আলোচনা সফল না হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বার্তা প্রচার করলো দূতাবাস। স্মরণ করা যায়, ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসিতে চীন-ভারত সমানে সমান লড়ছিলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট মতে, সেই দৌড়ে মোদি ম্যাজিকে আচমকা ভারত অনেকটাই এগিয়ে যায়। ভারতীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, নিজের দেশে টিকাদান কর্মসূচির ব্যস্ততা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিবেশী দেশগুলোতে লাখ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাছাড়া ভারত সরকার চীনের পুরনো মিত্রদেরও টার্গেট করে টিকা পাঠানো শুরু করে। সেই তালিকায় কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো রয়েছে। রয়টার্স বলছে, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য খর্ব করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উন্নয়নকারী হিসেবে ভারতের শক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছেন মোদি।