আন্তর্জাতিকজাতীয়তথ্য প্রযুক্তি

চীনের হুয়াওয়ে বুয়েটের সঙ্গে ঢাকায় আইসিটি অ্যাকাডেমি খুলছে - যেভাবে কাজ করবে এটি

বাংলাদেশে একটি তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ে।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস এবং ঢাকায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের এপ্রিলেই বুয়েটে কাজ শুরু করবে ‘হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি অ্যাকাডেমি’।

মূলত এটি হবে একটি বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার, যার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন পুরো বিশ্বের ১,২০০’র বেশি প্রশিক্ষক।

চীনা টেকনোলজি জায়ান্ট হুয়াওয়ে এমন সময় এই অ্যাকাডেমি বাংলাদেশে তৈরি করছে যখন কোম্পানিটি বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কঠিন সময় পার করছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে কিছু নিষেধাজ্ঞা আোপ করেছেন। আর যক্তরাজ্য-সহ আরও কিছু দেশে হুয়াওয়েকে ৫-জি উন্নয়ন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ওই একই জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে।

পরিকল্পনা ও চুক্তি অনুযায়ী, বুয়েট ওই অ্যাকাডেমির জন্য জায়গা দিবে, আর হুয়াওয়ে ল্যাবরেটরি তৈরি করে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে অন্য অ্যাকাডেমিগুলোর সাথে যোগসূত্র তৈরি করে দেবে।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলছেন যে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে ‘হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি অ্যাকাডেমি’র সার্টিফিকেট পাবে।

তার মতে, বাংলাদেশ আগামীতে ৫-জি প্রযুক্তিতে পদার্পন করতে যাচ্ছে, কিন্তু এখাতে দেশটিতে দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি আছে।

“বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি সম্বলিত ল্যাব করবে হুয়াওয়ে। ৫-জি ও আধুনিক ল্যাবরেটরির সমন্বয়ে এই অ্যাকাডেমি থেকে স্কিলড জনশক্তি বের হবে, যারা বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিবে,” বলছিলেন তিনি।

হুয়াওয়ে বলছে, এই অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠিত হবে তাদের অলাভজনক শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে, এবং দুটি বিষয়কে সামনে রেখে এটি কাজ করবে।

এগুলো হলো, তথ্য ও কম্পিউটার প্রযুক্তিখাতের চাহিদা পূরণে ট্রেনিং ও লার্নিং সল্যুশন আর পাশাপাশি আইসিটি খাতের জন্য ট্যালেন্ট ইকোসিস্টেম তৈরি করা।

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস বাংলাদেশের ডিরেক্টর ঝ্যাং চিডি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ওপর ৮৩টি কোর্স থাকবে, যেগুলোর কোর্স ও সার্টিফিকেশন করবে হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি অ্যাকাডেমি।

এই অ্যকাডেমি থেকে তিনটি গ্রেডের সার্টিফিকেট দেয়া হবে – অ্যাসোসিয়েট, প্রফেশনাল এবং এক্সপার্ট।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে বছরে বুয়েটের ২৫০ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেবে।

“তবে হুয়াওয়ের পক্ষ থেকে সারা বিশ্বে এ ধরণের ৯০০ আইসিটি অ্যাকাডেমি করা হবে এবং এর প্রতিটির সাথে আরেকটির যোগসূত্র থাকবে। ফলে অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সুযোগ তৈরি হবে”।

বাংলাদেশে হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের এই উর্ধতন কর্মকর্তা আরও বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা অন্য অ্যাকাডেমিগুলোর ট্রেনিং, সেমিনার এবং ওপেন ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন। হুয়াওয়ের নিয়মিত অনলাইন কোর্সেও তারা অংশ নিতে পারবেন।

“সারা বিশ্বে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী ৯০০ অ্যাকাডেমির মাধ্যমে ১,২০০ প্রশিক্ষক এবং নিজেদের পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হবে। তবে পরে বাংলাদেশে আরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এ ধরণের চুক্তির সম্ভাবনা আছে”, জানালেন ঝ্যাং চিডি।

বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার জানান, অ্যাকাডেমি প্রথমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং এটি বিশেষ কোন বিভাগের নয়, বরং সব বিভাগের সবাই এই অ্যাকাডেমিতে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

“প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা পরে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলবেন,” বলছিলেন তিনি।