আন্তর্জাতিকজাতীয়ধর্ম ও জীবন

ইসলাম-বিরোধী নয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলো ফ্রান্স

 সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম-বিদ্বেষ এবং মুসলমানদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তীব্রতর হয়েছে ফ্রান্সে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের ইসলাম বিদ্বেষি চিন্তাভাবনার সমর্থনে ফ্রান্সের সংসদ সম্প্রতি নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফরাসী সংসদ মঙ্গলবার ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী একটি আইন পাস করেছে। “প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি” সম্পর্কিত ওই আইনটির পক্ষে ভোট পড়েছে তিন শ সাতচল্লিশটি আর বিপক্ষে পড়েছে এক শ একান্নটি। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পাঠাতে হবে।

সত্তর অনুচ্ছেদের এই আইনের প্রয়োগ করে ফরাসি সরকার মসজিদসহ সকল ইসলামি কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে পারবে। সেইসঙ্গে ফরাসি সরকার চরমপন্থি বলে তাদের কাছে বিবেচিত সকল বক্তৃতার আয়োজনও বন্ধ করতে পারবে। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে অবশ্যই বিদেশ থেকে প্রাপ্ত অনুদানের ঘোষণা দিতে হবে এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোরও অনুমোদন নিতে হবে। এই আইনের ভিত্তিতে আঠারো বছরের কম বয়সী মুসলিম মেয়েদের প্রকাশ্যে হিজাব পরা নিষিদ্ধ করা যাবে। এই আইনটি মূলত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের তথাকথিত “ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের” সমর্থনে গৃহীত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর অংশ।

ম্যাক্রনের “আগ্রাসী ধর্মনিরপেক্ষতা” চিন্তার ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে এই আইন। ইম্যানুয়েল ম্যাক্রনের ইসলাম বিদ্বেষী এই আইনের সমালোচকরা মনে করেন যে আইনটি কেবলমাত্র ইসলামকে টার্গেট করেই করা হয়েছে। গত রোববার ফ্রান্সের মুসলমানরা তাই এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে।

ইম্যানুয়েল ম্যাকরন ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন এবং ইসলামী পবিত্র স্থানকে অপমান করার ক্ষেত্রেও একগুঁয়ে ও অযৌক্তিক মনোভাব পোষণ করেন। কিছুদিন আগেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে তিনি কার্টুন ম্যাগাজিন শার্লি আবদো-তে ইসলামের মহান নবীর অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

সুতরাং “প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি” সম্পর্কিত আইন পাস করার পর তা বাস্তবায়িত হলে ফ্রান্সের মুসলমানরা আরও বেশি কোনঠাসা হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে