জাতীয়দেশজুড়েপটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রাম

পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে যারা বিজয়ী হতে পারেন….

পটিয়া নিউজ.নেট : জনমত জরিপের ফলাফল, প্রার্থীদের প্রচারনার কৌশল, প্র্শাসনিক সুবিধাদি বিবেচনা করে পটিয়া পৌরসভার নির্বাচনে যিনি মেয়র পদে নির্বাচিত হতে পারেন বলে ভোটাররা মতামত দিয়েছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মেয়র প্রার্থী আইয়ুব বাবুল।

পটিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে পটিয়া নিউজের বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। দ্বৈব চয়ন পদ্ধতিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০ জন নারী ও ১০ পুরুষের নিকট প্রশ্ন ছিল পটিয়া পৌরসভার মেয়র পদে কে নির্বাচিত হতে পারেন? এতে শতভাগ ভোটার মত দিয়েছেন, আওয়ামী লীগের আইয়ুব বাবুলই বিজয়ী হবেন।

ভোটারদের কাছে প্রশ্ন ছিল, আপনি কাকে ভোট দিবেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে ৬০ ভাগ উত্তর ছিল নৌকার পক্ষে এবং ৩৫ ভাগ ধানের শিষের পক্ষে।

এ প্রথম ভোট দিবেন এমন নুতন ভোটারদের কাছে প্রশ্ন ছিল তারা কোন প্রার্থীকে ভোট দিবেন ? এমন ভোটারদের ৯০ শতাংশ বলেছেন, তারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিবেন।

তবে ভোটারদের অধিকাংশই ভোট দেয়ার ব্যাপারে তাদের অনাগ্রহের কথা জানান। যদি তাই হয় তাহলে রোববারের পটিয়া পৌর নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ ভোট কাস্টিং হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ভোটাররা।

নির্বাচনে সহিংসার আশংকা করছেন কিনা ? জানতে চাইলে ১০ জন ভোটারের ১জন মৃদু আশংকার কথা প্রকাশ করেছেন। তবে আশংকার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন ৯ জনই। তাদের উত্তর ছিল দূর্বল বিরোধীদলের কারণে সহিংসতার কোন আশংকা নেই। তবে কাউন্সিলরদের মধ্যে উত্তেজনা বা সহিংসতা হতে পারে।

নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন কীনা জানতে চাইলে ভোটারদের উত্তর ছিল, দেশের রাজনৈতিক ও ভোটের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে তার জয়ের সম্ভাবনা নেই।

কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে কারা বিজয়ী হবেন ? প্রতিটি ওয়ার্ডে একই প্রশ্ন ছিল আমাদের।

১নং ওয়ার্ডে ভোটারদের ১০ জনে ৮ জনই পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল খালেকের পরিবর্তে মো: নাছিরকেই তারা ভোট দিবেন। এতে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন।

২নং ওয়ার্ডে ভোটারদের উত্তর ছিল কৌশলী। তারা বর্তমান কাউন্সিলর রুপক সেন এবং সঞ্জীব কুমার দাশ এ দুজনের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন। কাকে তারা ভোট দিবেন জানতে চাইলে ভোটারদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার কথা জানান ১০ জনের মধ্যে ৫ জন। বাকী ৫ জনের ২ জন সঞ্জীবের পক্ষে এবং ২ জন রুপক সেনের পক্ষে ভোট দিবেন বলে জানান। একজন শাহাদাত হোসেনের কথা বলেন। যারা মতামত দেননি তাদের ভোটেই নির্ভর করবে কে জয়ী হবেন ২ নং ওয়ার্ডে। তবে ভোটাররা এব্যাপারে একমত পোষন করে বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্র যার নিয়ন্ত্রন থাকবে সে-ই হবে পরবর্তী কাউন্সিলর। সেক্ষেত্রে সঞ্জীব কুমারকে এগিয়ে রাখলেও নীরব ভোটে জয়ী হতে পারেন রূপক সেন।

৩নং ওয়ার্ডে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বর্তমান কাউন্সিলর আবু সৈয়দ এবং গিয়াস উদ্দীন আজাদের মধ্যে। সেখানে সাংবাদিক আবেদুজ্জামান আমিরী এবং গোলাম কাদেরকে পেছনে ফেলে মূল লড়াই হবে আবু সৈয়দ ও আজাদের মধ্যে। নীরব ভোটারদের সমর্থনে আবু সৈয়দ এগিয়ে থাকলেও ভোটারদের মতামত ভোটের দিন কেন্দ্রে যে পক্ষ বেশি ভোটার নিতে পারবে সে-ই বিজয়ী হবে। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রন (ভোটার উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক সহয়োগিতা) ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪ নং ওয়ার্ডে পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমান কাউন্সিলর গোফরানা সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বিএনপি ঘরানার প্রার্থী এম,এ,আবছারের মধ্যে। নির্বাচনী প্রচারণা, কৌশল এবং পরিচিতির কারণে এগিয়ে আছেন গোফরান রানা। তবে নীরব ভোটারদের একাংশ আবছারের পক্ষে রয়েছেন। ভোটের দিন যে প্রার্থী নিজের ভোটার উপস্থিত রাখতে পারবে সে প্রার্থীই জয়লাভে এগিয়ে থাকবে। শেয়ানপাড়া, ব্রাহ্মন পাড়া, নাপিত পাড়া এবং মাঝের ঘাটার ভোটারদের ১০ জনের ৭ জনই গোফরান রানাকে ভোট দিবেন বলে জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে গোফরান রানা আবারো পৌর কাউন্সিলর হতে পারেন।

৫ নং ওয়ার্ডে জসীম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় বিজয়ী হওয়ায় এ ওয়ার্ডের ভোটাদের মধ্যে ভোট নিয়ে কোন উচ্ছাস নেই। এখানে ১০ জন ভোটারের ৬ জনই বলেছেন, তারা ভোট দিতে যাবেন না।

৬ নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শফিউল আলম এবং রুবেল দাশের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। ১০ জন ভোটারের ৭ জনই আবারো শফিউল আলমকে ভোট দিবেন বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সেক্ষেত্রে পটিয়া নিউজের জনমত জরীপে এই ওয়ার্ডে শফিউল আলম আবারো কাউন্সিলর হতে যাচ্ছেন।

৭নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর কামাল উদ্দীন বেলাল, হাসান মুরাদ এবং কামরুল ইসলামের ত্রি-মূখী লড়াইয়ের আভাস দিয়েছেন ভোটাররা। তবে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির প্রাধান্য যে প্রার্থীর থাকবে সে-ই বিজয়ী হবে। এখানে ভোটারদের মতামত ছিল ত্রিধা বিভক্ত। তবে এলাকার ভোটারদের অতীত,বর্তমান এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে কামাল উদ্দীন বেলাল এবং হাসান মুরাদের যে কেউ আবারো বিজয়ী হতে পারেন।

৮ নং ওয়ার্ডে পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে বলে এলাকায় ঢুকতেই মানুষের মুখে শুনা গেল। এখানে বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল মা্ন্নান এবং ছরোয়ার কামাল রাজীব এই দুজনের মধ্যেই প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। রোহিঙ্গাদের অতীত সুযোগ-সুবিধার কারণে নীরব ভোটারদের একাংশ এখনো আবদুল মান্নানের পক্ষে।ভোটের দিন কেন্দ্র যে প্রার্থীর নিয়ন্ত্রন থাকবে সে প্রার্থী এগিয়ে থাকবে অনেকটা। তবে সরব ভোটারদের অধিকাংশই সরোয়ার কামাল রাজীবকে ভোট দিবেন বলে সাফ জানিয়েছেন। তাদের কথা রাজীব শিক্ষিত এবং তরুন উদীয়মান সমাজসেবক। পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থানের কারণে রাজীবের পক্ষে জনমত। যদি তাই হয় রাজীবই হচ্ছেন ৮ নং ওয়ার্ডের পরবর্তী কাউন্সিলর।

৯নং ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর শেখ সাইফুল ইসলাম, ইলিয়াছ চৌধুরী এবং মো: সোহেলের মধ্যে ত্রি-মূখী প্রতিদ্বন্ধিতার আভাস মিললেও জনমত জরিপ এবং অধিকাংশ ভোটার শেখ সাইফুল ইসলামের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি অধ্যুষিত এই ওয়ার্ডে মো: সোহেলের পক্ষেও ভোটারদের অবস্থান পরিস্কার। তবে কেন্দ্রে নিয়ন্ত্রন যে প্রার্থীর থাকবে সে প্রার্থীই বিজয়ী হবে। সেক্ষেত্রে শেখ সাইফুল ইসলামকে এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা।

এদিকে ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিতব্য পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তে প্রচার-প্রচারণা মুখর হয়ে উঠেছে পৌর এলাকার অলিগলি। এ নির্বাচনে ৪ মেয়র প্রার্থী ও সাধারণ ২৮ জন সাধারন ও ১০ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামীকাল শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হবে প্রচারণা।

ইতিমধ্যে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। হাট-বাজার-চায়ের দোকান অফিস আদালত, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানে এখন শুধু নির্বাচনী আলোচনা।

নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী  আইয়ুব বাবুল তার নেতাকর্মীদের নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে শো-ডাউন, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিদিন দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন আর ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন মাঠে।

অপরদিকে, বিএনপি’র প্রচার-প্রচারণায় তেমন সমন্বয় নেই। ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও নেই কোন বড় ধরণের কর্মসুচি। নীরব ভোটারদের একটি উল্লেখ্যযোগ্য অংশ ভোট কেন্দ্রে গেলে বিএনপির প্রার্থীকেই ভোট দিবেন এমন আভাস রয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের মাঠে ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আলী হোসাইন দলগত ও ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত। তবে ভোটারদের মধ্যে তেমন সাড়া পেলতে পারেননি এই প্রার্থী। জাতীয় পাটির শামসুল আলম মাস্টার পটিয়া পৌরসভার প্রথম প্রশাসক। তার ব্যক্তিগত পরিচিত থাকলেও জাতীয় পাটির সাংগঠনিক কোন শক্তি নেই। নতুন ভোটারদের কাছেও প্রবীণ এই নেতার কোন আবেদন নেই। তাই মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বিএনপি প্রার্থী নুরূল ইসলামের সাথে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইয়ুব বাবুলের।

রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার তারেফুজ্জামান জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ। আজ শুক্রবার মক ভোটিং হবে প্রতিটি কেন্দ্রে। শনিবার পোলিং পার্সনরা ই্ভিএম মেশিন নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন।

নিরাপত্তার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানান।

(এই জনমত জরিপ সব ভোটারের মতামতের প্রতিফলন নয়)