জাতীয়রাজনীতি

অনুষ্ঠানে বাড়িয়ে প্রশংসা করলে বিব্রত হই : পরিকল্পনামন্ত্রী

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়িয়ে ভুলভাল প্রশংসায় অস্বস্তি বোধ করেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে যখন বাড়িয়ে বাড়িয়ে আমার ভুলভাল প্রশংসা করা হয়, তখন নিজের কাছে লজ্জা লাগে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এসময় পরিকল্পনামন্ত্রী যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে যেভাবে প্রশংসা করা হয়, সেটি কমিয়ে আনার তাগিদ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কোনো অনুষ্ঠানে গেলেই ফুল আর ক্রেস্ট দেওয়া হয়। সঞ্চালক নানা ধরনের প্রশংসাবাক্য বলতে থাকেন। আমি বলি, এত প্রশংসা করবেন না। এসব প্রশংসা কমিয়ে আনা দরকার। একজন সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধে যেমন শুধু বলেন, শুট শুট শুট। তেমনি আমিও বলি, কাজ কাজ কাজ। অনুষ্ঠানে শুধু এতটুকু বলা যেতে পারে যে, কেমন আছেন, ভালো আছেন? এটুকুই যথেষ্ট।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দক্ষতা ও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, যে টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, সেই টাকা আমাদের নয়, জনগণের টাকা। জনগণ আমাদের টাকা দিয়েছে নিজেরা না খেয়ে। আধপেটা খেয়ে গ্রামে বসে তারা আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। অথচ আমাদের সুবিধাজনক একটা সিস্টেম দিয়েছে, খাবারদাবার দিয়েছে। তারা আশা করে, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। সেটা তাদের নৈতিক এবং বাস্তবিক চাওয়া। সেটাই আমি আপনাদের বারবার বলি, আমরা কাজটা যেন যথা সময়ের মধ্যে করি। কিন্তু আপনি যদি কাজটা না করেন, যেখানে সেতু করার কথা ছিল, সেটি না করেন, তাহলে জনগণের কথা তো শুনতেই হবে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভয় পাওয়ার দিন শেষ। মাথা নুইয়ে চলার দিন শেষ। আমরা কাজ করব, কাজের সুফল ভোগ করব—এটাই শেষ কথা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে সামনে ধূলিঝড় দেখি। আমাদের মনে রাখতে হবে, মাঝেমধ্যে এই ধূলিঝড় আসবে। তবে ধূলিঝড় মাত্র পাঁচ মিনিটের। দিনটা কিন্তু ২৪ ঘণ্টার। তাই ধূলিঝড় আসবে। সেখানে আমাদের সাবধানে থাকতে হবে।’

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্বাচিত চলমান প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণ ও সমাপ্ত প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নসংক্রান্ত কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী এবং অতিরিক্ত সচিব গাজী মো. সাইফুজ্জামান। আইএমইডি এই কর্মশালার আয়োজন করে।