জাতীয়দেশজুড়ে

৭০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে ঘর উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল দেশের কোনো মানুষ আশ্রয়হীন থাকবে না। পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশের গৃহহীন-ভূমিহীনদের ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পেলেন আধাপাকা বাড়ি।বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। একযোগে এত ভূমিহীন-গৃহহীন মানুষকে জমি ও ঘর করে দেওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটিই প্রথম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুষ্ঠানে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ৪৯২টি উপজেলা প্রান্ত ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সংযুক্ত হয় অনুষ্ঠানে।বিজ্ঞাপন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফ্রেবুয়ারি নোয়াখালী জেলার বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের চরপোড়াগাছ গ্রাম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণের নির্দেশ দেন। তারই নির্দেশে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম শুরু হয় গৃহহীন পুনর্বাসন কার্যক্রম। পরে ১৯৭২ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন আয়োজিত সমবায় সম্মেলনের বক্তব্যে অঙ্গীকার করেছিলেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।’

স্বপ্ন পূরণের পথে জাতির পিতার অগ্রযাত্রা থমকে যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে। তার সেই স্বপ্ন পূরণকেই ব্রত হিসেবে নিয়ে কাজ করে চলেছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে জাতির পিতার অসমাপ্ত জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমগুলো পুরনায় চালু করেন। ১৯৯৭ সালের ২০ মে কক্সবাজার জেলার ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মানুষদের দুর্দশা দেখতে কক্সবাজার পরিদর্শন করেন এবং গৃহহীন মানুষদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প। সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ৩ লাখ ২০ হাজার ৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।বিজ্ঞাপন

পরবর্তী মেয়াদে ক্ষমতায় না আসতে পারলেও ২০০৯ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফের শুরু করে সেই কার্যক্রম। সবশেষ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের ঐতিহাসিক উপলক্ষ সামনে রেখে সরকার ঘোষণা করে ‘মুজিববর্ষ’। এই মুজিববর্ষেই দেশের গৃহহীন মানুষদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তারই প্রথম ধাপে ৬৬ হাজারেরও বেশি পরিবার বুঝে পাচ্ছে আশ্রয়।
প্রকল্প সূত্র জানায়, দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে ‘দেশের সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা-২০২০’ প্রণয়ন করা হয়। গত বছরের জুন মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর দেশজুড়ে শুরু হয় কর্মযজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহ নির্মাণ উপযোগী ২ শতাংশ খাস জমি বরাদ্দ করে প্রথম ধাপে ৬৬ হাজার ১৮৯টি পরিবারের জন্য একক গৃহ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অধিকাংশ গৃহ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই আরও একলাখ ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারের জন্য গৃহ প্রদান কর্মযজ্ঞ চলমান থাকবে।বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সূত্র আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায়ের (সিভিআরপি প্রকল্প) মাধ্যমে এই ৬৬ হাজার ১৮৯টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একক গৃহ নির্মাণের সামগ্রিক কার্যক্রম সমন্বয় করছে। মুজিববর্ষে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্পগ্রামে ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে গৃহ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ কোটি ৭১লাখ টাকা। প্রতিটি ঘরের জন্য ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

প্রকল্পের নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলা হয়েছে, ভূমিহীন-গৃহহীন ও ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা, আয়মুখী কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনিমার্ণের লক্ষ্যে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।