জাতীয়ধর্ম ও জীবন

আজ পবিত্র রবিউল আউয়াল

আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামিন, সাইয়্যেদুল মুরসালিন, খাতামুন্নাবিয়ীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-আ’লা-আ’লিহী ওয়াসাল্লামের পৃথিবীতে শুভাগমনের দিন। পবিত্র এই দিনটি উদযাপনে সারাবিশ্বের মতো চট্টগ্রামেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জশনে জুলুস, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলাসহ সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর উদ্যোগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) এর জীবনীর ওপর আলোচনা সভা ও মাহফিলসহ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। আলোকসজ্জা করা হয়েছে সরকারি-বেসরকারি ভবনে। আজ সরকারি ছুটির দিন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। গতকাল দেয়া পৃথক পৃথক বাণীতে তাঁরা দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও চট্টগ্রামে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট জশনে জুলুসের আয়োজন করেছে। তবে ৪৬ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম সীমিত পরিসরে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে এবার জুলুস না হওয়ার শংকা তৈরি হয়েছিল। জুলুস করা হবে না এমন সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে জুলুসের অনুমতি দেয়া হয়। এর পরপরেই আনজুমান থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়।
আজ সকাল ৮টায় আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া হতে জশনে জুলুস আরম্ভ হয়ে বিবিরহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় ও ওয়াসা মোড় ঘুরে তা জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া প্রাঙ্গণে ফিরে আসবে। সেখানে মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। মাহফিলে প্রধান অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। বিশেষ অতিথি থাকবেন মুছলেম উদ্দীন আহমদ এমপি ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মান্নাফী। এরপর জুমার নামাজ শেষে করোনা মহামারিতে আক্রান্ত বিশ্ববাসীর মুক্তি কামনা ও বাংলাদেশের শান্তি সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে বিশেষ মুনাজাত করা হবে।
আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট ও গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সুন্নী ত্বরিকতভিত্তিক সংগঠন জশনে জুলুস সফল করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। আজ সকালে জশনে জুলুসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্‌জুমান ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মহসিন ও জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতী সৈয়্যদ মুহাম্মদ অছিয়র রহমান।
উল্লেখ্য, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪শ’ বছর পূর্বে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে এদিনে সুবহে সাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোল আলো করে হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আ’লা আ’লিহী ওয়াসাল্লাম আসেন এই ধরায়। পৃথিবীতে আসার আগেই তিনি পিতৃহারা হন। জন্মের কিছুদিনের মধ্যে হারান প্রিয় জননীকে। এরপর চাচা আবু তালিব তাকে লালন-পালন করেন। ৪০ বছর বয়সে তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নবুয়াতপ্রাপ্ত হন। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে অসভ্য বর্বর ও পথহারা মানব জাতিকে সত্যের সন্ধান দেয়ার মহান দায়িত্ব পান তিনি। অন্ধকার যুগে এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেন তিনি। কিন্তু অসভ্য-বর্বর আরব জাতি তাঁর (দ.) দাওয়াত গ্রহণ তো দূরের কথা, উল্টো নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে। একের পর এক জোটবদ্ধ হতে থাকে কাফেরের দল। একপর্যায়ে তারা রাসুল (দ.) কে হত্যার পরিকল্পনা করলে তিনি আল্লাহর নির্দেশে মদীনায় হিজরত করেন। এরপর মদীনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করেন এবং মদীনা সনদ নামে পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন।