জাতীয়

একদিনেই আক্রান্ত ৩০০৯ জন, মৃত্যু বেড়ে ৩০৩৫

মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের দেশে গত ২৪ ঘণ্টায়ও নতুন করে আরও ৩ হাজার ৯ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এইসময়ে মধ্যে সারা দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ফলে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ১৯৪ জন হয়েছে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় মোট পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৩০ শতাংশ ও এই সময়ের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। 

২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩০ জন এবং নারী ৫ জন। এ পর্যন্ত যারা কোভিড আক্রান্ত মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ২ হাজার ৩৮৮ জন, ৭৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং নারী ৬৪৮ জন, ২১ দশমিক ৩২ শতাংশ। 

বুধবার (২৯ জুলাই) করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিয়মিত বুলেটিনে সংযুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. সুলতানা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ২৫৩টি। পরীক্ষা হয়েছে পূর্বের নমুনাসহ ১৪ হাজার ১২৭টি। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১১ লাখ ৫১ হাজার ২৫৮টি নমুনা।’

কোভিড-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৮৭৮ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লক্ষ ৩০ হাজার ২৯২ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৭ জন ও ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন।’

এ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক মৃত্যু শূণ্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, দশমিক ৫৯ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, দশমিক ৯৯ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৫ জন, ২ দশমিক ৮০ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরে ২০১ জন, ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরে ৪৩১ জন, ১৪ দশমিক ২০ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরে ৮৭৬ জন, ২৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ষাটোর্ধ্ব ১ হাজার ৩৯৪ জন, ৪৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ। 

ডা. সুলতানা বলেন, যে ৩৫ জন গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, খুলনা বিভাগে ২ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২ জন, রংপুর বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন ও বরিশাল বিভাগে ৪ জন রয়েছে। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন, বাড়িতে ৪ জন।’

এ পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা ও শতকরা হারে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৪৫৮ জন, শতকরা হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ; চট্টগ্রামে ৭৩৯ জন, ২৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ; রাজশাহী ১৭৯ জন, ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ; খুলনা ২১৪ জন, ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ; বরিশাল ১১৯ জন, ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ; সিলেটে ১৪৬ জন, ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ; রংপুরে ১১৫ জন, ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।

তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৮২৭ জন, ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৬ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ৪৯ হাজার ৩১৬ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৬৪৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৬৬৯ জন। 

ডা. সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৫ জন। এ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭০ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৭ হাজার ২৪৪ জন।