আন্তর্জাতিকজাতীয়

ইরানি হামলায় ‘অন্ধ’ হয়ে পড়ে মার্কিন সেনাবাহিনী!

ইরানি কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিশোধে ইরাকে অবস্থান নেওয়া মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তেহরান। ইরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্ধ হয়ে পড়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তায় টহল দেওয়া মার্কিন ড্রোনগুলোকে ‘চোখ’ আখ্যা দিয়ে দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হামলার সময় ড্রোনগুলোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘অন্ধ’ হয়ে পড়েছিল মার্কিন সেনাবাহিনী।

ইরানের সেনাবাহিনী রেভ্যুলশনারি গার্ডের নেতৃত্বে বাগদাদের দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে তিন ঘণ্টায় প্রায় ২২টি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এ হামলায় অন্তত ৮০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ হামলায় কোনো সেনা নিহত হয়নি।

এএফপি’তে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,আইন আল আসাদ ঘাঁটিতে হামলা শুরুর পর আকাশে টহল দেওয়া ড্রোনগুলোর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি মার্কিন বাহিনী। সে সময় ইরাকের আকাশে টহলরত ছিল সাতটি মার্কিন ড্রোন। যার মধ্যে এমকিউ-ওয়ানসি গ্রে ঈগল নামের অত্যাধুনিক ড্রোনটি টানা সাত ঘণ্টা উড়তে এবং চারটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।

মার্কিন ফার্স্ট সার্জেন্ট ওয়েসলে কিলপ্যাট্রিক বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমাদের ফাইবার লাইনগুলো আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। ওই লাইনগুলো ভার্চুয়াল ককপিট থেকে অ্যান্টেনা ও স্যাটেলাইটের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। এর মাধ্যমে গ্রে ঈগলসে সংকেত পাঠানো হতো এবং ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফিডব্যাক আইন আল-আসাদ ঘাঁটির স্ক্রিনে চলে যেত। ফাইবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সেখানে আর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ফলে সেনারা ড্রোনগুলোর অবস্থান আর খুঁজে পাচ্ছিল না এবং আকাশে-মাটিতে কী ঘটছে,সে সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছিল না। অর্থাৎ তখন যদি কোনো ড্রোন ভূপাতিত করা হয়ে থাকে সে সম্পর্কে জানার কোনো সুযোগ ছিল না মার্কিন বাহিনীর।’

২৬ বছর বয়সী স্টাফ সার্জেন্ট কসটিন হেরউইগ বলেন,‘সংঘাতের আশঙ্কায় আমরা এয়ার ক্রাফটগুলো (ড্রোন) চালু রেখেছিলাম। আমি নিজেও একটি গ্রে ঈগল পরিচালনা করছিলাম। হামলার সময় ঘাঁটিতে অবস্থান করা এক হাজার ৫০০ সেনার বেশিরভাগই বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে ড্রোন নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৪ জন পাইলট আলাদা কন্টেইনারে আশ্রয় নিয়েছিল।’

হেরউইগ আরও বলেন,‘প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি আমাদের শেল্টারে আঘাত হানে। তবে পাইলটদের আগের অবস্থানেই থাকতে হয়েছিল। এরপর একের পর এক আঘাত হতে থাকে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের আর কিছুই করার নেই। কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না তখন। আমরা ভাগ্যকে বরণ করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ হওয়ার পর সিগন্যাল ঠিক করার চেষ্টা করে মার্কিন সেনাবাহিনী। তারা মূলত গ্রে ঈগলস ড্রোনের সঙ্গে সংযোগ পাওয়ার চেষ্টা করে। হামলার পর মার্কিন সেনাদের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রে ঈগলকে অবতরণ করানো। বিপজ্জনক পর্যায়ে জ্বালানি কমে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ড্রোনগুলো আকাশে উড়তে থাকে। প্রত্যেকটি ড্রোন অবতরণ করাতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যায় পাইলটদের। সর্বশেষ ড্রোনটিকে অবতরণ করানো হয় হামলার পরদিন সকাল ৯টায়।

মার্কিন এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি গ্রে ঈগলের মূল্য ৭০ লাখ ডলার। ২০১৭ সাল থেকে ইরাকে মোতায়েনরত মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই ড্রোন ব্যবহার করে আসছে।

কিলপ্যাট্রিক বলেন, ‘আমরা আমাদের সব ড্রোন মাটিতে নামাতে সক্ষম হই। এটা জটিল একটা কাজ ছিল।’