আন্তর্জাতিকজাতীয়

মোদী-শাহকেই ‘অনুপ্রবেশকারি’ বললেন অধীর চৌধুরী

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে ভারতজুড়ে প্রবল প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক তিনটি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয় হয়েছে এনআরসি আতঙ্কের ধাক্কায়। তবুও সারাদেশে এনআরসি চালু করতে অনড় মনোভাব দেখাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও জোর গলায় বলেছেন, সারা ভারতেই এনআরসি হবে। এবার তাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি অনুপ্রবেশকারি আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহকেই গুজরাট থেকে দিল্লিতে আসা ‘শরণার্থী’ বলে কটাক্ষ করেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।  রবিবার সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মোদী-শাহকে তীব্র আক্রমণ করে অধীর বলেছেন, এনআরসি নিয়ে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছে বিজেপি। দেশের প্রকৃত নাগরকিরাও এখন আতঙ্কে ভুগছেন। নিজের দেশে নিশ্চিন্তে থাকে মানুষ।

ভোট দিতে যায়। পেটের জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে গরিব মানুষ এত কাগজ জোগাড় করবেন কোত্থেকে? এনআরসির মাধ্যমে বিজেপি আসলে ধর্মীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অধীর। তিনি বলেছেন, বিজেপি মুসলমানদের দেশ থেকে তাড়াতে চাইছে। ওদের সে ক্ষমতা নেই।

আর মুসলমানরা তো এ দেশেরই নাগরিক। তারা দেশ ছেড়ে যাবেনই বা কেন? এই দেশ হিন্দু-মুসলিম সকলের। কিন্তু ওরা বলছে হিন্দুরা থাকবে, মুসলিমরা নয়। কেন? এই দেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নাকি? এখানে সকলের সমান অধিকার রয়েছে। অধীর আগে নিজেই মোদী-শাহর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন, আমার বাবা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। আমিও অনুপ্রবেশকারি। কিন্তু আমাকে তাড়াক দেখি। এনআরসি নিয়ে বিজেপি আসামে ইতিমধ্যেই লেজেগোবড়ে হয়েছে। কয়েকশ কোটি রুপি খরচ করে যে এনআরসি হয়েছে তা থেকে ১৯ লাখ মানুষ বাদ গিয়েছেন।

এর মধ্যে ১২ লাখই হিন্দু। আর তাই এখন আসামের বিজেপি দাবি তুলেছে, এই এনআরসি ভুলে ভরা। এই এনআরসিকে বাতিল করা হোক। সারা দেশের সঙ্গে আসামে নতুর করে এনআরসি হোক। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসির বিরুদ্ধে সব দলই সোচ্চার হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই এনআরসির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই বলে আসছেন, রাজ্য থেকে একজনকেও এনআরসির নামে তিনি তাড়াতে দেবেন না।