আন্তর্জাতিকপটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রাম

মাদ্রিদে আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে টিআইবি’র মানববন্ধন


পটিয়া নিউজ : স্পেনের মাদ্রিদে আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ  বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, পটিয়া শাখা। আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলন উপলক্ষে ২৮ নভেম্বর পটিয়া উপজেলা সদরের থানার মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব দাবি তুলে ধরে সনাক-টিআইবি।
সনাক সভাপতি শীলা দাশ এর সভাপতিত্বে এবং টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার রুপম চাকমা এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সনাক পটিয়ার সদস্য মোঃ সোলায়মান, স্বজন সমন্বয়ক মোঃ নুরুল ইসলাম, স্বজন সদস্য রুপস মুৎসুদ্দী এবং উপজেলা পূজা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক কান্তিলাল ভুট্টাচার্য। আরো উপস্থিত ছিলেন সনাক পটিয়ার সদস্য অধ্যাপক অজিত কুমার মিত্র, আবদুর রাজ্জাক, উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি শ্যামল ভুট্টাচার্য্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নগরফুল এর সমন্বয়ক শুভ ধর, বেসরকারি সংস্থা ইপসা’র শাখা ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম, মুক্তি কক্সসবাজার এর শাখা ব্যবস্থাপক সজল কান্তি  ভুট্টাচার্য্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবতা পটিয়া’র মডারেটর মোহাম্মদ আরাফাত, নারী জাগরণ সংঘের রিংকী দেব, টিআইবি’র এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোঃ সাইফুল ইসলাম, ইয়েস দলনেতা আকাশ দত্ত, ইয়েস সহ-দলনেতা আমেনা বেগম ও মোঃ শাহেদ খান প্রমুখ। মানববন্ধনের শুরুতে টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার রুপম চাকমা জলবায়ু অর্থায়নের প্রেক্ষাপট, জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিতে বৈশ্বিক অবস্থা, বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জসমূহসহ, আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলনে টিআইবি’র প্রত্যাশা ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন। মানববন্ধনে সনাক এর ইয়েস দলের সদস্যরা ছাড়াও সূর্যের হাসি ক্লিনিক, আশা, ইপসা, মুক্তি কক্সসবাজার সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, নগরফুল, পথফুল, মানবতা পটিয়া, নারী জাগরণ সংঘ সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আসন্ন কপ-২৫ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত রূপরেখা গৃহীত হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা যা বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী প্যারিস চুক্তিতে প্রতিশ্রুত জলবায়ু তহবিল প্রদান, জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সহায়ক হবে। জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়টি বাধ্যতামূলক না থাকায় স্বল্পোন্নত দেশসমূহের জন্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়নে তীব্র অনিশ্চয়তা পরীলক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি চরম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলো জিসিএফ(গ্রীণ এনার্জি ফান্ড)থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল পাবার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়ে বাংলাদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে।” কপ-২৫ উপলক্ষে সনাক-টিআইবি’র পক্ষ থেকে উপস্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান নীতি বিবেচনা করে ঋণ নয়, শুধু সরকারি অনুদান, যা উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রতিশ্রæতির বিপরীতে প্রতিশ্রæত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে করা; ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরিকল্পিত অভিযোজনের জন্য জিসিএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তহবিল হতে প্রয়োজনীয় তহবিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাসময়ে, সহজে সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ সহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে (ক্লাইমেট ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে) দাবি উপস্থাপন করা এবং তা আাদায়ে দর কষাকষিতে দক্ষতা প্রদর্শন করা; উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাহিদা মাফিক জলবায়ু অনুদান ভিত্তিক তহবিল প্রদানে একটি সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ নিশ্চিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলো হতে প্রয়োজনীয় সম্পদ (জলবায়ু তহবিল, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কারিগরি সহায়তা) সরবরাহের জোর দাবি উত্থাপন করা, জিসিএফ এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে সুশীল সমাজ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে সমতা-ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বমূলক এবং কার্যকর ট্রাস্টি বোর্ড গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের অভিযোজন কার্যক্রমে অনুদানকে অগ্রাধিকার প্রদান করা; স্বল্পোন্নত দেশে অভিযোজন বাবদ অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় বিশেষ তহবিল গঠন এবং তার জন্য দ্রæত অর্থায়ন নিশ্চিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সোচ্চার হওয়া; ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ মোকাবেলায় জলবায়ু ঝুঁকি বিনিময় করার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বীমা করার পরিবর্তে উন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ আদায় করে ঝুঁকি বিনিময় খরচ একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে কার্যকর করা এবং জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতে জিসিএফ এবং অভিযোজন তহবিল থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করা। পাশাপশি বাংলাদেশ সরকারের কাছেও কিছু দাবি উত্থাপন করা হয় সনাক-টিআইবি’র পক্ষ থেকে। সেগুলি হল-২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে অনতিবিলম্বে রামপাল, তালতলি ও কলাপাড়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পায়ন কার্যক্রম স্থগিত করে ইউনেস্কো’র সুপারিশ অনুযায়ী অন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্ব›দ্ব-মুক্ত কৌশলগত পরিবেশের প্রভাব নিরুপণ সাপেক্ষে অগ্রসর হওয়া; নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে লক্ষ্য করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে আশু পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রত্যন্ত এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দরিদ্র জন্গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে জেলা-উপজেলাভিত্তিক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে হবে এবং ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ মোকাবেলায় একটি জাতীয় কাঠামো প্রণয়নসহ বিপন্ন মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তোলা।
উল্লেখ্য, জলবায়ু অর্থায়ন এবং তার ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে টিআইবি ২০১১ সাল হতে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীজনের সাথে গবেষণা-ভিত্তিক সুপারিশ বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন নিশ্চিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি যেমন হয়েছে পাশাপাশি টিআইবি প্রণীত জলবায়ু প্রকল্প তদারকি কৌশল ও সামাজিক নিরীক্ষা টুল কেনিয়া, রুয়ান্ডা, মালদ্বীপ, নেপাল ও মেক্সিকোতে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতি বছর কপ সম্মেলনের প্রাক্কালে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণালব্ধ সুপারিশ সম্মেলনের অংশীজনের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়।