অন্যান্য সংবাদ

জামাই-শাশুড়ির বিয়ে, যা ঘটেছিল আসলে...

ছবি : সংগৃহীত

গত কোরবানির ঈদের তিন দিন আগে বিয়ে করেন মোনছের আলী (৩২) নামে এক যুবক। সেদিন তরুণী স্ত্রীর সঙ্গে জামাই বাড়ি গিয়েছিলেন তার শাশুড়িও (৪০)। সেখানে অবস্থানের তৃতীয় দিনে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জামাই-শাশুড়ি। অতঃপর শারীরিক সম্পর্ক হয় দুজনের। মায়ের এমন কাণ্ড দেখে স্বামীর সঙ্গে থাকতে আপত্তি জানান তরুণী। শেষ পর্যন্ত মা-মেয়ে একই সঙ্গে নিজেদের স্বামীকে তালাক দেন। পরে শাশুড়িকে বিয়ে করেন মেয়ের জামাই।

এ ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামে। গত মঙ্গলবার দুই পরিবারের সালিসেই এই ঘটনা ঘটে।

সালিসে সবার সামনেই জামাতার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন মোনছের আলীর শাশুড়ি। স্বামীকে তালাকের পর নতুন জামাকাপড় পরে এসে জামাতাকে বিয়ের দাবি করেন তিনি। অন্যথায় আত্মহত্যা করার হুমকি দিলে বাধ্য হয়ে তাদের বিয়ে দেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদারসহ সংশ্লিষ্টরা।

করিআটা গ্রামের বাসিন্দা এবং হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোনছের আলী কোরবানির ঈদের তিনদিন আগে গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামের এক তরুণীকে (১৯) বিয়ে করেন। বিয়ের দিন মেয়ের সঙ্গে আসেন মোনছেরের শাশুড়িও।

সেখানে অবস্থানের সময় জামাই তার স্ত্রীর চেয়ে শাশুড়িকে বেশি সুন্দর বলে মন্তব্য করেন। তখন থেকেই দুজনের মধ্যকার সম্পর্ক পরকীয়ায় মোড় নেয়।

জানা গেছে, মায়ের সঙ্গে তার স্বামীর খুনশুটির সম্পর্ক দেখে প্রথমে কিছু মনে না করলেও তাদের বিয়ের তিনদিনের মাথায় তিনি বুঝতে পারেন ঘটনা অন্যরকম। ওই তরুণী জানিয়েছেন, বিয়ের তৃতীয় দিনের মাথায় জামাই ও তার মা শারীরিক সম্পর্কে জড়ান।

এই অবস্থায়ও স্বামীর সঙ্গে দুই মাস সংসার করেন তিনি। এর মাঝেও নানা অজুহাতে মোনছের তার বাবার বাড়ি চলে আসতেন। মেয়ের মাও কয়েকবার জামাই বাড়ি গেছেন।

গত সোমবার ওই তরুণী বাড়ি ফিরে পুরো ঘটনা তার বাবাকে জানান। স্বামীর সঙ্গে তিনি থাকবেন না বলেও দাবি করেন। ঘটনা প্রমাণ করতে জামাইকে সেদিন নিজের বাড়িতে রেখে দেন শ্বশুর। রাতে বুঝতে পারেন তার স্ত্রী ও জামাইয়ের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। পরে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করবেন না বলে জানান।

এদিকে ঘটনা জানতে পেরে পাড়া-প্রতিবেশীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা জামাই-শাশুড়িকে আটক করে। পরে মোনছেরকেও মারধর করে।

অপরদিকে গ্রাম্য সালিস ডাকেন মোনছেরের শ্বশুর। সেখানে উপস্থিত হন হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদারসহ এলাকার কর্তা ব্যক্তিরা।

বিষয়টি নিয়ে আমাদের সময় অনলাইনের কথা হয় চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদারের সঙ্গে। তিনি জানান, সালিসে প্রথমে ওই তরুণীর জবানবন্দি নেন তারা। তিনি তার মা ও স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। পরে তার মাকে নিজের ভাষ্য দিতে বলা হয়। তিনি গত দুই মাসে ঘটা পুরো ঘটনা স্বীকার করেন।

চেয়ারম্যান আরও জানান, এ সময় বাবা-মেয়ে তাদের সংসার করবেন না জানিয়ে তালাকের কথা বলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই তরুণীর মা বলেন, ‘মেয়ে সংসার না করলে আমি জামাতার সংসার করব।’ পরে তিনি তার স্বামীকে তালাক দেন। মেয়েও তার স্বামীকে তালাক দেন।

তালাকের পর্ব শেষ হলে ওই নারী নতুন জামা কাপড় পরে এসে মেয়ের তালাকপ্রাপ্ত জামাতাকে বিয়ের দাবি করেন। অন্যথায় আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘বাধ্য হয়ে আমরা ওই নারীকে তার জামাতার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে এলাকাছাড়া করি। কারণ, এলাকাবাসী ওই নারীকে গ্রামে রাখার পক্ষে ছিল না।’ দুই পরিবারের সকলের সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বিয়েতে সম্মতি দেন বলেও জানান তিনি।

ওই সালিসে সবার উপস্থিতিতে মোনছের আলীর সঙ্গে তার শাশুড়ির এক লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়। হাদিরা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী জিন্নাহ এ বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রাম্য মাতব্বর এবং ওই পরিবারের সকল সদস্যের সম্মতিতে দুটি তালাক এবং একটি বিবাহের কাজ একই সঙ্গে সম্পাদন করা হয়।’

চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার জানান, ক্ষুব্ধগ্রামবাসী মোনছের ও তার নতুন স্ত্রীকে মারধর করার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা বাধা দেন। পরে ওই নারী তার স্বামীকে নিয়ে চলে যান।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেয়ের স্বামীর সঙ্গে মায়ের পরকীয়ার ঘটনা ও বিয়ের ব্যাপারে শুনেছি। কিন্তু থানায় এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (আমাদের সময়)