জাতীয়দেশজুড়েপ্রিয় চট্রগ্রামরাজনীতি

নতুন নেতৃত্ব আসছে আ'লীগের সহযোগী চার সংগঠনে

নতুন নেতৃত্ব আসছে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে। এ লক্ষ্যে তাদের সম্মেলনের তারিখ প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২রা নভেম্বর কৃষক লীগ, ৯ নভেম্বর শ্রমিক লীগ, ১৬ই নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ২৩শে নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, কৃষক লীগের সম্মেলনের তারিখ দুই-একদিন এদিক-সেদিক হতে পারে। এই ৪ সংগঠনের কমিটিই তিন বছর মেয়াদি। ২০১২ সালে এসব সংগঠনের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে তিন বছর আগেই সংগঠনগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এদিকে নতুন নেতৃত্ব ঠিক করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সাধারণত কাউন্সিলের আগে কে কোন সংগঠনের নেতৃত্বে আসবে তা নিয়ে আলোচনা হয় ব্যপক। অনেকের নাম শোনা যায় বিভিন্ন পদে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। চার সংগঠনের নেতৃত্বে কে আসবেন তা নিয়ে অনেকটা নীরব অবস্থা বিরাজ করছে। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর কাউন্সিল নিয়ে তেমন কোন মাতামাতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা যাকে নির্ধারন করবেন তিনিই সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন। দলীয় নেতারা জানান, তবে নেতৃত্ব বদলে এবার ব্যপক চমক থাকতে পারে। পরীক্ষিত ও অপেক্ষাকৃত তরুনদের হাতে ছেড়ে দেয়া হবে সংগঠনের দায়িত্ব। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে তাদের প্রাধান্য দেয়া হবে। একই মাসে চার সংগঠনের কাউন্সিল আওয়ামী লীগকে নতুন করে চাঙ্গা করবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। তারা বলেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চার সংগঠনের কাউন্সিল হওয়ায় দলের মধ্যে উদ্যমতা কাজ করবে। গত ১৪  সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। এর আলোকে সহযোগী সংগঠনগুলোকে ১০ ডিসেম্বরের আগেই সম্মেলন শেষ করতে চিঠি দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ৭ বছর আগে আওয়ামী যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে ওমর ফারুক চৌধুরী আর সাধারণ সম্পাদক পদে হারুন অর রশীদ দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে যুবলীগ।

দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম আর দূর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন কবছেন নারয়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের  নেতা সিরাজুল ইসলাম।

অন্যদিকে ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। বর্তমানে সভাপতি- আ্যড: মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক- পংকজ নাথ এমপি। এর মধ্যে সভাপতির বিরুদ্ধে রয়েছে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। এদিকে আরকে সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সভাপতি হিসেবে আছেন সাবেক ছাত্রনেতা মোতাহার হোসেন  মোল্লা  ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক  খোন্দকার শামসুল হক। রাজধানীতে কার্যত কোনো কৃষিজমি নেই, কৃষকও নেই। তবে এখানে কৃষক লীগের নেতা-কর্মীর কোনো কমতি নেই। রাজধানীতে কৃষক লীগের পদধারী নেতাই আছেন প্রায় ৮ হাজার। কাউন্সিলের মাধ্যমে এর আমূল পরিবর্তন হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কৃষকসমাজকে সংগঠিত করা এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের জন্ম।