জাতীয়দেশজুড়েপটিয়ার খবরপ্রিয় চট্রগ্রামরাজনীতি

চট্টগ্রামে বিএনপি জোটের প্রার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে ভোটের সময় বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা।

প্রতীক বরাদ্দ শেষে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর সোমবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।

নির্বাচনের আগে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার-বাড়িতে বাড়িতে অভিযান-হয়রানির প্রতিবাদ এবং নির্বাচনী প্রচারে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিটি এলাকায়, প্রতি রাতে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চলছে, গ্রেপ্তার চলছে। এতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ার যে কথা ছিল, তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সময়ে ভয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টির যে প্রক্রিয়া চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। যারা এসব কাজ কাজ করছে, তারা সঠিক কাজ করছে না…এমন মেসেজ তাদের আমাদের পক্ষ থেকে দিচ্ছি। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কোনো কারণ নেই।

কারাগারে থাকা বিএনপি ও জোটের প্রার্থীদের মুক্তি দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।অলি আহমদ বিচারকদের আইন মেনে এবং পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

নোমান বলেন, “বিরোধী দলের জন্য এক রকম আইন, তাদের (ক্ষমতাসীন দল) জন্য আইন অন্য রকম। শত শত মামলা আমাদের কাঁধে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির এমন কোনো পরিবার নেই, যেখানে হয়রানি করা হচ্ছে না।

“ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ চাই, কিন্তু আমরা তা পাচ্ছি না। এবার আমরা আর ঘরে বসে থাকব না। তৃণমূলের নেতা ও জনগণকে সামনে দিয়ে আমরা আর পেছনে থাকব না। সামনে থেকেই লড়াই করব।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র অলি আহমদ বলেন, “আমরা (ভোটে) থাকার জন্যই এসেছি। আমাদের লক্ষ লক্ষ কর্মী মাঠে নেমে পড়েছে কোনো আনন্দ উৎসবের জন্য নয়, তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগের জন্য।

“সামনের দিকে যাবার জন্য মাঠে নেমেছি। বাংলাদেশ ইজারা দেওয়া হয় নাই। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, আমরা এগিয়ে যাব।”

আমীর খসরু বলেন, “আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে এসেছি। এ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করব। দেশের মালিকানা দেশের মানুষে কাছে ফিরিয়ে দেব।”

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের দাবি পূরণ হয়েছে কি না- জানতে চাইলে এলডিপি অলি বলেন, “কোনো ডিমান্ড ফুলফিল হয় নাই, যতবার বলি প্রত্যেকবার সরকারের পক্ষ থেকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলছে, হচ্ছে… হয়ে যাবে। কিন্তু কোনোটাই হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “আমরা প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই জনগণ যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে।”

সরকার দেশকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে দাবি করে অলি বলেন, “আমরা শান্তি চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, দেশের প্রতি আপনার দায়িত্ব আছে। দেশকে ধ্বংসের দিকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেবেন না।”