জাতীয়দেশজুড়েপটিয়ার খবররাজনীতি

সামশুল হক চৌধুরীর স্বপ্ন;পটিয়া হবে মডেল শহর

এটিএম তোহা :  আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে ৩য় বারের মত মনোনয়ন পেয়েছেন পটিয়ার মাটি ও মানুষের জনপ্রিয় নেতা আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে পর পর দুবার তিনি সংসদীয় আসন ২৮৯ পটিয়া থেকে নির্বাচিত হন। এবার বিজয়ী হলে এটা হবে চট্টগ্রামের ইতিহাসে পর পর কোন সংসদ সদস্যের হ্যাট্রিক বিজয়।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে দলীয় ও সরকারি সব জরিপেই সামশুল হক চৌধুরী ছিলেন অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের চেয়ে বিপুলভাবে এগিয়ে। আগামী ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের পর প্রাথীরা তাদের ভোটের প্রচার শুরু করতে পারবেন। 

তবে এর আগেই সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষে পাড়া-মহল্লায় স্বতস্ফুর্তভাবে ভোটের প্রচার শুরু করেছে উৎসাহী সাধারণ মানুষ। 

পটিয়ার ১৭ টি ইউনিয়নে সামশুল হক চৌধুরীর পক্ষে কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া ১১১টি ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এবং মহিলা লীগের মাধ্যমে কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটির কাজও শেষ করা হয়েছে। কমিটিতে দলীয় লোকজন ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্থান দেয়া হয়েছে।

ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভোটের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সামশুল হক চৌধুরীর সমর্থক ভোটাররা। বিগতদিনে পটিয়ার মানুষের সাথে তাঁর যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, এখানে তিনি যেভাবে উন্নয়ন করেছেন তাতে লোকজন এখনই বলাবলি শুরু করেছে সামশুল হক চৌধুরী ছাড়া আর কাকে ভোট দিব ?

শুক্রবার পটিয়া নিউজ এর সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে সামশুল হক চৌধুরী পটিয়ার উন্নয়ন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা জানান এ প্রতিবেদককে। 

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম তার শতভাগ পূরণ করেছি। এমপি হওয়ার সুবাদে অনেক দেশেই যেতে হয়েছে এবং তাদের উন্নয়ন চিত্র নিজ চোখে দেখে এসেছি। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে এখন আমি পটিয়াকে সাজাতে চাই।

তিনি জানান, এবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী শ্লোগান  “গ্রাম হবে শহর”। আর সে লক্ষ্যেই আমি পটিয়ার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়েছি। পটিয়া এখণ শতভাগ বিদ্যুতের আওতায়। লোডশেডিংও দেশের অন্য এলাকার তূলনায় কম। 

সন্ধ্যা নামলেই গ্রামে যে নিস্তব্ধতা নেমে আসতো এখন তা নেই। গ্রামের রাস্তায় এখন রাতে শহরের মত বাতি জ্বলে। গ্রামে বিদ্যুত থাকার কারণে ছোট ছোট ফার্ম,কারখানা ও দোকান পাট গড়ে উর্ঠেছে। 

পটিয়ার ছেলেদের কর্মসংস্থান হয়েছে। বেকারত্ব নেই বললেই চলে। 

তিনি বলেন, পটিয়ায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মডেল মসজিদ, শেখ রাসেল স্টেডিয়াম, হাইদগাঁও এলাকায় হর্টিকালচার সেন্টার এবং চা বাগান এলাকায় কৃষি নির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠার মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীনের পথে। আশা করছি ২ বছরের মধ্যেই এসব শেষ করতে পারলে পটিয়া হবে শহরের পাশে উপশহর।

কর্ণফুলী টানেলের সাথে পটিয়ার সংযোগ সড়ক হয়েছে। এটিকে আরো কীভাবে সম্প্রসারণ করে পটিয়ার সাথে কানেকটিভি বাড়ানো যায় সে পরিকল্পনাও রয়েছে। 

ইতিমধ্যে শহর ও কক্সবাজারের সাথে রেল কানেকটিভিটির সাথে আমরা পটিয়াকে যুক্ত করেছি।

পটিয়া পৌরসভাকে চীনের অাদলে একটি মডেল ও দৃষ্টিনন্দন পৌরশহর গড়ে তোলা হবে। আমজুর হাট থেকে পৌরসভার শেষ প্রান্ত শ্রীমাই পর্যন্ত চার লেইন রাস্তা করা হবে। ড্রেনের উপর দিয়ে ফুটপাত দিয়ে লোকজন হাঁটবে। 

প্রতি ১০ মিনিট পর পর যাতায়াত করবে এমন আভ্যন্তরীন গাড়ীর উদ্যোগ নেয়া হবে। মাত্র ৫ টাকায় লোকেরা যাতে শহরের এ প্রান্ত থেকে অপর ‍প্রান্তে যেতে পারে সে জন্য বিশেষ ধরণের এ গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন চীনে এ ধরণের গাড়ি চলতে আমি দেখেছি। 

পটিয়ার মেয়রকে লন্ডন থেকে ভ্রমন করে আনা হয়েছে অভিজ্ঞতার জন্য।

পটিয়ার এমন কোন শিক্ষা,ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে গত ১০ বছর উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন হয়েছে। তিনি বলেন কাউকে উন্নয়নের ভার দিয়ে আমি কোন অনিয়ম সৃষ্টি করেনি-নিজেই তদারক করেছি। পটিয়ায় সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ করেছি। মানুষ আমাকে ২৪ ঘন্টা পেয়েছে। 

আমার মোবাইল সব সময় খোলা ছিল। আমি যেখানে গিয়েছি মানুষকে বলেছি প্রয়োজন হলেই আমাকে ফোন করবেন। 

মানুষ ফোন করেছে, এলাকার সমস্যার কথা যেমন বলেছে তেমনি পারিবারিক সমস্যার কথাও বলেছে। মানুষ আমাকে ভালবাসে বলেই তাদের সব কথা আমাকে বলার মত সাহস পেয়েছে বিশ্বাস করেছে। 

তাদের সে বিশ্বাসের মর্যাদা আমি রেখেছি সেটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো। মানুষের ভালবাসা থেকেই আমি আবারো প্রার্থী হয়েছি। দলের মনোনয়ন দেয়ার মালিক ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা। তাঁরা আমার এলাকায় লোক পাঠিয়েছে, খবর নিয়েছে, আমি বিগত ১০ বছর পটিয়ায় কী করেছি।পটিয়ার মানুষ একবাক্যে বলেছে আমি তাদের পাশে ছিলাম।

আমি পটিয়ার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ।আমার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাই ভোট চাইতে পারবে। আমি পটিয়ার জন্য যা বরাদ্দ পেয়েছি সবই পটিয়ার কল্যানে খরচ করেছি। আমার কোন বদনাম নেই।আমি মানুষের পাশে ছিলাম আছি এবং থাকবো।